Type Here to Get Search Results !

ধূপকাঠি না ধুনো - কোনটা ঈশ্বরের প্রিয়?

 জ্যোতিশশাস্ত্র 


ধূপকাঠি না ধুনো - কোনটা ঈশ্বরের প্রিয়?



  সনাতন ধর্মে নিত্যপূজা থেকে শুরু করে বড় কোনও উৎসব— ঈশ্বর আরাধনায় সুগন্ধির ব্যবহার আবহমানকালের। আর এই সুগন্ধির কথা উঠলেই মন ও মস্তিস্কে দুটি নাম সবার আগে ভেসে ওঠে— ধূপকাঠি এবং ধুনো। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ঈশ্বরের বন্দনায় এই দুটির মধ্যে কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য? কিসে বেশি তুষ্ট হন দেব-দেবী? সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, ধুনো হলো অত্যন্ত পবিত্র এবং দেব-দেবীকে নিবেদনের জন্য সর্বোত্তম উপাদান। ধুনো মূলত শাল গাছের আঠা বা নির্যাস থেকে তৈরি হয়, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও বিশুদ্ধ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ধুনোর সুগন্ধ চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং শুভ শক্তির আবাহন ঘটায়। বিশেষ করে মা দুর্গা, মহাদেব এবং মা লক্ষ্মীর পুজোয় ধুনো অপরিহার্য। 


  আরতির সময় পঞ্চপ্রদীপের পাশাপাশি ধুনোর ধোঁয়া দেওয়ার যে প্রাচীন রীতি রয়েছে, তা মূলত পরিবেশ ও মনকে দেব-আরাধনার উপযুক্ত করে তোলার জন্যই করা হয়ে থাকে। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ধূপকাঠি জ্বালানো অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক হলেও, শাস্ত্রজ্ঞদের একাংশ এর ব্যবহারে কিছুটা আপত্তি প্রকাশ করেন। এর মূল কারণ হল, বাজারচলতি অধিকাংশ ধূপকাঠিতে কাঠি হিসেবে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। সনাতন ধর্মে বাঁশ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ মনে করা হয় বাঁশ পোড়ালে বংশের ক্ষতি হয় এবং বাস্তুদোষ তৈরি হতে পারে। এছাড়া সস্তা ধূপকাঠিতে কৃত্রিম রাসায়নিক সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, যা পুজোর আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা ক্ষুণ্ণ করে। তবে বর্তমানে বাজারে বাঁশহীন বা খাঁটি চন্দন ও ফুলের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি ভেষজ ধূপকাঠিও পাওয়া যায়, যা ব্যবহারে কোনও শাস্ত্রীয় বাধা নেই।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.