দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রতকে কখনোই বিরোধী দলনেতা করা যায় না - কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বৃহস্পতিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, ঠিক তেমনই আদালতে দলের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যে বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাঁকে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব? তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থায় দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে অন্য একজনকে ওই পদে বসানোর যৌক্তিকতা কোথায়? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে আরও বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমনকি স্পিকারকে স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাতেও তিনি বিরোধী দলনেতার ভূমিকাতেই উপস্থিত ছিলেন।
সেই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কেন এবং কীসের ভিত্তিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে স্বীকৃতি দেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি জানতে চান, যদি কোনও রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বহিষ্কার করে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি কীভাবে বিরোধী দলনেতার পদে আসীন হতে পারেন? একইসঙ্গে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর স্পিকারের তরফে কেন কোনও পৃথক বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়নি। তার প্রেক্ষিতে, বিধানসভা শুরুর আগে নতুন করে আসন সংরক্ষণ না করার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।