বালি পাথর কয়লার পরে এবার অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ 'এভারেস্ট দুর্নীতি'
তৃণমূল কংগ্রেস ও 'দুর্নীতি' শব্দটা প্রায় সমার্থক। নিয়োগ দুর্নীতি দিয়ে ওদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এবার খবর এসেছে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বসের এভারেস্ট দুর্নীতি। এটা পড়ে খানিক চমকে উঠলেন তো? এই ভয়ঙ্কর অভিযোগ যিনি এনেছেন তিনি হলেন বাংলার তথা চন্দন-নগরের মেয়ে, অসামান্য পর্বতারোহী-মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী পিয়ালি বসাক। আর এই দুর্নীতির মাথায় যিনি ছিলেন, তিনি আর কেউ নন তৎকালীন যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পিয়ালী জানালেন কীভাবে অরূপ ঘনিষ্ঠরা পর্বতারোহীদের নিম্নমানের সামগ্রী দিতেন। এমনকী, পর্বতে ওঠার সময় কীভাবে পিয়ালিকে মারধর করা হয়েছিল সবটা জানালেন তিনি। পিয়ালি বলেন, “২০১৮ সালে একটি অভিযান করা হয়। রাজ্য সরকারই সেটার আয়োজন করে। পর্বত আরোহীদের যাবতীয় জিনিস সরকারই দিত। দশজন ছেলেকে ওরাই সিলেক্ট করেছিল। তৃণমূল সরকারের তরফে যে তাঁবু-স্লিপিং ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল সব নিম্নমানের। মাত্র ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় ফ্রস্ট বাইট হয়ে যায়। ৫ জন ছেলের ফ্রস্ট বাইট হয়ে গেল। ওদের পায়ের সব আঙুল আর হাতের সব আঙুল বাদ দিতে হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস তখন সামলাতেন এই ডিপার্টমেন্ট।”
পিয়ালি বলেন, “পর্বতারোহীদের নিয়ে কমিটি তৈরি হয়েছিল তাতে ছিলেন -দেবদাস নন্দী, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, দেবরাজ দত্ত, উজ্জ্বল রায়। পাহাড়ে তো অনেকে মারা যান। যেমন- ছন্দা গায়েন, দীপঙ্কর ঘোষ, গৌতম ঘোষ, পরেশ নাথ, সুভাষ নাথদের মতো মানুষদের আমরা হারিয়েছি। এদের মৃতদেহ খুঁজতে রাজ্য সরকার এক-একজন পিছু ২ কোটি টাকা দিয়েছিল। অথচ নেপালের এজেন্সি বলল টাকা পায়নি। সেই টাকা কোথায় গেল? পিয়ালি বললেন, “আমি প্রথমে বুঝতাম না মন্ত্রী নিজেই যুক্ত। ভেবেছি এগুলো (যে সকল বেআইনি ঘটনা ঘটেছিল) জানালে হয়ত সমস্যার সমাধান হবে। আমি যখন এই সমস্ত কথা অরূপ বিশ্বাসকে জানাতে গিয়েছি, উনি আমার কথা শুনলেন না। এমনকী বডি গার্ড ছিল তাঁদের দিয়ে আমায় বাইরে বের করে দিল নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের।”