আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার ইরানের
শেষ পর্যন্ত ইরান সম্ভবত ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করে জানিয়ে দিতে চলেছে যে তারা পরমাণু অস্ত্র বানাবে না। পরমাণু অস্ত্র কোনওদিনও বানাবে না ইরান। এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত ছিল ইরানকে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। তেহরাহানের নেতৃত্ব সেই শর্তে রাজি হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন দাবির পরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শীঘ্রই থামতে চলেছে দু’দেশের যুদ্ধ? শুধু তা-ই নয়, এ প্রশ্নও উঠছে যে ট্রাম্পের চাপেই কি নতি স্বীকার করল ইরান? যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্প ইরানকে যে শর্তগুলি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হল – হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ার অনুমতি এবং তেহরানের হাতে যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা ওয়াশিংটনকে হস্তান্তর করতে হবে। একইসহঙ্গে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু আমেরিকার এই শর্তগুলি মানতে নারাজ তেহরান।
এর জেরেই সমঝোতায় আসতে পারছে না দু’দেশ। এই আবহে শনিবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার শুধু একটি নিশ্চয়তা চাই, তা হল ইরানের হাতে যেন কোনও পরমাণু অস্ত্র না থাকে। মজার বিষয় হল আমাদের প্রস্তাবে তারা রাজি হয়েছে।” যদিও তেহরান বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের জন্য উপযুক্ত মাত্রার কাছাকাছি। ইজরায়েলি কর্তাদের দাবি, এই ইউরেনিয়াম যদি আরও পরিশোধন করা হয়, তাহলে এগুলি থেকে একাধিক পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব, যা অত্যন্ত ভয়ংকর। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বেশিরভাগ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে ইসফাহান পারমাণু কেন্দ্রে। সেখানেই নয়া হামলার পরিকল্পনা করেছিল মার্কিন সেনা।
