শ্রাবণ শুরুর আগেই বৈদ্যনাথ ধামে কড়া নিয়ম
শুরু হতে চলেছে শ্রাবন মাস - মহাদেবের মাস। এবার সারা বিশ্বের শিব মন্দিরে নামবে ভক্তদের ঢল। ঝাড়খণ্ডের পবিত্র নগরী দেওঘরে অবস্থিত দ্বাদশ জ্যোতিলিঙ্কের অন্যতম পুণ্যতীর্থ বাবা বৈদ্যনাথ ধাম। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে এখানে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয়। তবে এবার আসন্ন ‘রাজকীয় শ্রাবণী মেলা ২০২৬’ শুরুর আগেই মন্দির প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে, ধর্মীয় আবেগ রক্ষা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ (Crowd Management)-এর স্বার্থে এবার মন্দিরের গর্ভগৃহের ভেতরে মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।
দেওঘর জেলা শাসক (DC) সৌরভ কুমার ভুয়ানিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে পুরোহিত সমাজ এবং পণ্ডা ধর্মরক্ষিণী সভার কর্মকর্তাদের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
১) এতদিন গর্ভগৃহে মোবাইল নিয়ে ঢোকার ছাড়পত্র থাকায় অনেক পুণ্যার্থীই শিবলিঙ্গে পুজো দেওয়ার চেয়ে সেখানে ছবি তোলা, ভিডিও করা বা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ‘রিল’ বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। এর ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য ভক্তদের অযথা সময় নষ্ট হতো এবং গর্ভগৃহের ভেতরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ত।
২) বিশ্ববিখ্যাত মন্দির হওয়ায় বৈদ্যনাথ ধামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। গর্ভগৃহের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গার ভেতরের ছবি ও ভিডিও বাইরে চলে যাওয়া নিরাপত্তার খাতিরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেই কথা মাথায় রেখেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
শ্রাবণ মাসে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ কাঁওড়িয়া সুলতানগঞ্জ থেকে গঙ্গাজল নিয়ে পায়ে হেঁটে বাবা ধামে আসেন। এই বিপুল ভিড় সামলাতে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথ রণকৌশল তৈরি করেছে। সাধারণ ভক্তদের যাতে কোনও হয়রানি না পোহাতে হয়, তার জন্য ‘শীঘ্র দর্শনম’ (পেইড কুপন ব্যবস্থা) এবং ভিআইপি (VIP) পুজোর ক্ষেত্রে কড়া নিয়মবিধি কার্যকর করা হবে।
