পালাবদলে বাংলায় বিরাট চমক নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজোর
গত ২/৩ বছর এই পুজো নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। কারণ এই পুজো নাকি বিজেপি প্রভাবিত। তৃণমূলের আমলে বাংলায় একাধিক পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সে অভিযোগ বারবার নস্যাৎ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা সত্ত্বেও এমনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে হয়েছিল নিউটাউনের সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটিকে। বদলের বাংলায় ওই পুজো কমিটির ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। চলতি বছর পুজোয় দিতে পারে বড়সড় চমক। উদ্যোক্তাদের তরফে তেমনই আভাস পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর তত্ত্বাবধানেই নিউটাউনের সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটি ২০২২ সালে প্রথমবার উমা আরাধনার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বাদ সাধে নাকি পুজো কমিটির নামে থাকা ‘সনাতনী’ শব্দ। আর তার ফলে পুজো নিয়ে আপত্তি জানাতে থাকে তৎকালীন শাসক শিবির তৃণমূল। তাই সেবার অনুমতি পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল উদ্যোক্তাদের। অনুমতির আশায় কলকাতা হাই কোর্টেরও দ্বারস্থ হতে হয়েছিল পুজো উদ্যোক্তাদের। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ মেলে অনুমতি। কোনওক্রমে স্বল্প আয়োজনে পুজো করতে হয়।
সে বছর পুজো উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। তখনই পুজোয় বাধা দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। পুজো উদ্যোক্তা বরুণ বিশ্বাস জানান, তার পরের বছরও রীতিমতো লড়াই করে পুজো করতে হয়। তবে পরপর দু’বছর তৎকালীন রাজ্য সরকারের দেওয়া লাখ লাখ টাকা পুজো অনুদান থেকে বঞ্চিত হয় এই পুজো কমিটি। যদিও কোনওদিনই অনুদানের মুখাপেক্ষী ছিলেন না কমিটির সদস্যরা। নিজেদের উদ্যোগেই পুজোর আয়োজন করতেন। তৃণমূলের ‘পেশিশক্তি’র কাছে নতিস্বীকার করতে হয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে। আদালতের অনুমতি সত্ত্বেও পরপর দু’বছর পুজো করতে পারেননি তাঁরা। পালাবদলের
বাংলায় আশার আলো ফিরে পেয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। এবার ধুমধাম করে পুজো করার কথা ভাবছেন তাঁরা। বিশেষ চমক থাকবে বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের। আগামী ২৪ জুলাই খুঁটিপুজো। উপস্থিত থাকবেন কার্তিক মহারাজ এবং নির্গুণানন্দ মহারাজ। এবারের থিম সনাতনী থেকে বিজ্ঞান।