অফবিট
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে হেঁশেলের ৪ উপাদান, কীভাবে হয়ে উঠেছিল বিপ্লবের হাতিয়ার?
১৫ আগস্ট মানেই ভারতবাসীর আবেগ, ভালোবাসা। ওইদিন ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসকে নানাভাবে স্মরণ করে ভারতবাসী। দিনটির কথা উঠলেই ফিরে যেতে হয় স্বাধীনতা আন্দোনের সেইসব উত্তাল মুহুর্তে। শুধু রাজপথ কিংবা সভা-সমিতিতেই আটকে থাকেনি এই সংগ্রাম। সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের আঁচ এসে পড়েছিল গেরস্তের হেঁশেলেও। বিপ্লবের বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল মানুষের রোজকারের খাদ্যতালিকায়। ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভাঙতে দেশাত্মবোধের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল আমাদের অতি পরিচিত সব খাবার। রান্নাঘরের সাধারণ উপকরণ কীভাবে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক নীরব ও জোরালো প্রতিবাদ হয়ে উঠেছিল, জানেন সেই ইতিহাস? স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ইতিবৃত্ত।
* নুন
স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নুনের চেয়ে শক্তিশালী প্রতীক আর দুটি ছিল না। সাধারণ মানুষের উপরে চাপানো ব্রিটিশদের লবন আইন ও অন্যায় ভাবে আরোপিত ভারী করের জবাবে মহাত্মা গান্ধী বেছে নিয়েছিলেন হেঁশেলের এই অতি সাধারণ উপাদানকে।
* গুড় ও দেশি চিনি
বিংশ শতাব্দীর সূচনায় ব্রিটিশদের আমদানি করা পরিশোধিত চিনির বিকল্প হিসেবে আন্দোলনের অঙ্গ হয়ে ওঠে দেশি গুড়। গ্রামীন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ও দেশের টাকা দেশে রাখতে গান্ধীজি গুড় তৈরির কুটির শিল্পে জোর দেন। পাশাপাশি, বিলাতি চিনি বর্জনের ডাক ওঠে চতুর্দিকে।
* পুরন পোলি ও সাখরেচ্যা গাথি
মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ‘পুরন পোলি’ মিষ্টিতে বিলাতি চিনির বদলে গুড়ের ব্যবহার শুরু হয়। অন্যদিকে, শিমগা ও গুড়ি পাডওয়ার মতো উৎসবে ব্যবহৃত শর্করার মালা বা ‘সাখরেচ্যা গাথি’ বানাতে স্বদেশি চিনি না পাওয়া গেলে, উৎসব উদযাপনেও বিদেশি চিনি বর্জন করতেন আন্দোলনকারীরা।
* চা ও মিষ্টান্ন
ব্রিটিশদের চা বাগান ও বিপণন নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ গর্জে উঠেছিল। গান্ধীবাদী আন্দোলনের বার্তা ছিল উপনিবেশের চা-সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকা। অন্যদিকে, দেশের আনাচে-কানাচে ময়রা ও মিষ্টান্ন বিক্রেতারা শপথ নিয়েছিলেন বিদেশি চিনি ছুঁয়েও দেখবেন না।