পুজোর আগেই রাজ্যের সমস্ত থানাকে আধুনিক করতে হবে, গড়ে তোলা হবে বিশেষ - 'জীবন রক্ষক' বাহিনী - মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এবার নজর পুলিশ বাহিনীর দিকে। এমন এক বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গড়া তুলতে চান যারা মুহূর্তে জীবনের খুঁকি নিয়ে যেকোনো বিপর্যয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার লালবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে পুলিশমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে যে কোনও বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে কুইক রেসপন্স করার ক্ষেত্রে লোকবল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রতি থানায় কুই রেসপন্স ভেহিকেল। এবার পুজোর আগেই থানা প্রতি একটি করে ১১২ গাড়ি দেওয়া হবে জানান শুভেন্দু অধিকারী। মহালয়া অর্থাৎ দেবীপক্ষের সূচনাতেই ব্রিগেডে পুলিশমন্ত্রীর হাত ধরেই যার সূচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। নিজেদের জীবন-বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো মনোবল যাঁদের আছে, সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ‘জীবন রক্ষক’ পুরস্কার ঘোষণা করেন পুলিশমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “রাজ্য পুলিশে ৪৩ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। বহু থানা সিভিক পুলিশ-নির্ভর। পরিকাঠামো, লজিস্টিক্স এবং গাড়ির এমন খারাপ অবস্থা আর কোথাও নেই।” লালবাজারে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান থেকেই শুভেন্দুর জানান, এবার সব থানার আধুনিকীকরণ হবে, মহিলা হেল্পডেস্ক আরও উন্নত হবে, সাইবারে বিভাগে নজরদারি বাড়ানো হবে। তাঁর কথায়, “জনতার দরবারে প্রচুর সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ আসে। জমানো পুঁজি খুইয়ে পথে বসতে হচ্ছে মানুষকে।” তিনি জানান, “সিভিল ডিফেন্সে ২০০ জনের নতুন ব্রিগেড বানাচ্ছি। নাম দিয়েছি অর্জুন।” পুজোর আগেই যে বাহিনী আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “অগ্নিবীরদেরও নেওয়া হবে এই টিমে।” আমফানের মতো বিপর্যয় মোকাবিলায় আগের সরকারের ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন দেখেছিলাম, আমফানের সময় তিনদিনে একটাও গাছ সরাতে পারেনি। ৩০০ পুলিশের ওডিএমজি পাঠিয়েছিল ওড়িশা পুলিশ, তারা এসে ১২ ঘণ্টায় কাজ করে দিয়েছিল। আমরা দাঁড়িয়ে দেখলাম।” এবার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সময় এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।