অফবিট
'হনুমান অংশ' সিনেমা যেখানে চলছে সেখানে প্রায় সমস্ত হলেও '৯' নম্বর সিট খালি রাখা হচ্ছে কেন?
মানুষের অদ্ভুত সব বিশ্বাস।একে কেউ বলবেন 'ভক্তি' আবার কেউ বলবেন 'কুসংস্কার'। কিন্তু প্রশ্ন হল মালিকেরা এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? সিনেমার নাম ‘হনুমান অংশ’ (Hanuman Ansh)। কাইঞ্চি ধামের জনপ্রিয় সাধক নিম করোলি বাবার জীবনের উপর আধারিত এই ছবির গল্প। সাধক নিম করোলি বাবা নাকি নানা অসাধ্য সাধন করতে পারতেন, এমনটাই বিশ্বাস ছিল ভক্তদের। তিনি ছিলেন হনুমানের একনিষ্ঠ ভক্ত। হনুমান মূর্তির পাদদেশে বসে সাধনা করেই কেটে গিয়েছে তাঁর জীবনের এক বড় অংশ। তাঁর জন্মনাম লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা, জন্ম হয় উত্তরপ্রদেশের আকবরপুর অঞ্চলে। ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বৃন্দাবনে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ছবি মুক্তির পর প্রাথমিক অবস্থায় তেমন জনপ্রিয় না হলেও, কিছুদিন পর থেকে ভিড় বাড়তে থাকে দর্শকদের। এমনকী এক সময় থেকে রীতিমতো হাউজফুল হতে থাকে শোয়ের পর শো। মাত্র ১.৮ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ছবিটি প্রথম দিনে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করলেও ২৬তম দিনে ছবিটির ভারতীয় নেট সংগ্রহ প্রায় ৫৪.১৩ কোটি টাকায় পৌঁছয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেখা যায় খালি রয়েছে একখানা সিট, যার নম্বর ৯। এমন কেন? আসলে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এক আধ্যাত্মিক বিশ্বাস।
এই ছবির প্রদর্শনের সময়ই জনৈক মিরাজ সিনেমাসের পক্ষ থেকে ৯ নম্বর আসনটি সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই সিনেমা চেনের অধীনে যে কয়টি প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে, প্রতিটিতেই ‘হনুমান অংশ’ প্রদর্শনীর সময় ফাঁকা রাখা হবে ওই একটি আসন। কারণ, তাঁদের বিশ্বাস—বাবা নিজেই তাঁর ভক্তদের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখবেন! বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক ৯ নম্বর আসনই কেন? ৯ সংখ্যাকে ঘিরে এই বিশ্বাস মূলত ধর্মীয় ও সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত। প্রচলিত হিন্দু সংখ্যাতত্ত্বে ৯ সংখ্যার অধিপতি হিসেবে মঙ্গলকে ধরা হয়। মঙ্গল আবার শক্তি, সাহস, উদ্যম এবং দৃঢ়তার প্রতীক—যে গুণগুলি ভক্তির পরম্পরায় ভগবান হনুমানের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়।