Type Here to Get Search Results !

১৮৬০-এর দশকে বেনারসের মহারাজা ঈশ্বরী প্রসাদ নারায়ণ সিংহের অর্থসাহায্যে তৈরি হয়েছিল এই কূপ

 অফবিট 


   ১৮৬০-এর দশকে বেনারসের মহারাজা ঈশ্বরী প্রসাদ নারায়ণ সিংহের অর্থসাহায্যে তৈরি হয়েছিল এই কূপ 



  ভাবতে বেশ অবাক লাগে এক ভারতীয় রাজার সৌজন্যে এখনও ইংল্যান্ডের এক গ্রামের বহু মানুষ জল পার। বিদেশের মাটিতে ভারতের এমন এক নিদর্শন, যার সামনে দাঁড়ালে বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে ওঠে দুই চোখ। নেপথ্যে এক ভারতীয় মহারাজা। এই নিদর্শন কিন্তু কোনও গগনচুম্বী প্রাসাদ নয়, বাড়ি নয়, ফটক নয়— বরং এক কুয়ো! স্বাভাবিকভাবেই এত এই কুয়োর স্থাপনা, তা জানার জন্য উদ্বেল হয়ে ওঠে মন। ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ছোট্ট গ্রাম স্টোক রো-তে দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন এক কুয়ো, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের এক মহারাজার নাম। ৩৬৮ ফুট গভীর এই ঐতিহাসিক জলকূপটি পরিচিত ‘মহারাজা’স ওয়েল’ নামে (Maharaja’s Well)। ১৮৬০-এর দশকে বেনারসের মহারাজা ঈশ্বরী প্রসাদ নারায়ণ সিংহের অর্থসাহায্যে তৈরি হয়েছিল এটি। ১৮৬৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়োটি উদ্বোধন করা হয়।


  চিলটার্ন হিলসের স্টোক রো-তে একসময় পানীয় জলের যথেষ্ট অভাব ছিল। স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির কারণে শুষ্ক মরশুমে পুকুর শুকিয়ে যেত এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও ছিল অনেক গভীরে। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ আধিকারিক এডওয়ার্ড অ্যান্ডারটন রিডে স্টোক রো-র জলকষ্টের কথা বেনারসের মহারাজার কাছে জানান। শোনা যায়, খরার সময় এক বাড়িতে থাকা শেষ জলটুকু পান করার অপরাধে এক শিশুকে শাস্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনাও তিনি মহারাজাকে জানিয়েছিলেন। ঘটনাটি গভীরভাবে প্রভাবিত করে মহারাজাকে; তিনি গ্রামবাসীদের জন্য একটি কুয়ো তৈরির অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৬৩ সালে কুয়ো খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। কেবলমাত্র হাতে খুঁড়েই প্রায় ৩৬৮ ফুট গভীরে পৌঁছনো হয়, যাতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পাওয়া যায়। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় এই প্রকল্পে প্রায় ৩৫৩ পাউন্ড খরচ হয়েছিল এবং নির্মাণে প্রায় এক বছর সময় লাগে। অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে তুলনা করলে তা দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা!

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.