পুজোতে বুকস্টল ও বিবেকানন্দ - বিতর্ক জিইয়ে রাখলেন শুভেন্দু ও শতরূপ
এই বিষয়টা খুব পরিষ্কারভাবে সকলের বোঝা দরকার যে, বিবেকানন্দ 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থ লিখেছেন -' আমি একজন কমিউনিস্ট'! এই কথা স্মরণে রাখলে বিতর্ক হয়তো আগেই বন্ধ হয়ে যেতো। দুর্গাপুজোয় মণ্ডপের সামনে সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে লাগাতার সমালোচনা শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে। প্যান্ডেল থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাল শালু ও দলীয় পতাকায় সাজিয়ে বইয়ের স্টল রাখেন কমরেডরা, অথচ সেখানে মার্ক্স-লেনিন ছাড়া অন্য কোনও বই বিশেষত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব তথা স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজি, ভারত সেবাশ্রমের কোনও বই পাওয়া যায় না। শনিবারও এমনই কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তার পালটা দিতে স্বামী বিবেকানন্দকে হাতিয়ার করল সিপিএম। দলের তরুণ নেতা পোস্টে উল্লেখ করলেন, বাঙালিকে প্রথম মার্ক্স, লেনিন পড়তে শিখিয়েছিলেন বিবেকানন্দের ভাই, কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।
শনিবার বামেদের তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “৩৪ বছর ধরে যারা পুজো লিখতে দেয়নি, পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ, সাত্ত্বিকতা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তারা মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করেনি। অথচ প্যান্ডেল থেকে দূরে একটা লাল শালু লাগিয়ে বসত। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দজী, ভারত সেবাশ্রমের লেখা বই পাবেন না। সেখানে বাংলা তৈরির তত্ত্বের কোনও বই পাবেন না। দ্বিজাতি তত্ত্বে ভারত ভাগের বই পাবেন না। হনুমান চালিশা পাবেন না। কার্ল মার্ক্স, লেনিনের বই পাবেন।হনুমান চালিশা পাবেন না।’’এর পালটা দিতে গিয়ে সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ সিপিএমের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের বই থাকার দাবি করে বলেন, “দুটো জিনিস জানতে পারবেন। প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের লেখা এবং বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা – এই দুই ধরনেরই একাধিক বই পাওয়া যায়। দ্বিতীয় কথা, বাঙালিকে আজ থেকে ১২০ বছর আগে মার্ক্স-লেনিনের বই পড়তে যিনি প্রথম শিখিয়েছিলেন, তিনি স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, নিজের মায়ের পেটের ভাই, কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।”