যেমন কথা তেমনই কাজ। কিছুদিন আগেই রাজ্য মন্ত্রীসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এখন থেকে প্রশাসনিক কাজ যতটা সম্ভব বাংলায় করা হবে। চলতি মাস থেকেই প্রশাসনিক কাজে বাংলাকে প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নথি, চিঠিপত্র, বিজ্ঞপ্তি, আদেশনামা, প্রতিবেদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়েছে, এই কর্মসূচির অগ্রগতি নজরে রাখতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে রাজ্যস্তরীয় পরিচালন কমিটি গড়া হবে। প্রতিটি বিভাগ ও জেলাতেও থাকবে পৃথক বাস্তবায়ন কমিটি। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার বিভাগকে সমন্বয়কারী বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নবান্নার তরফে বাংলায় জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আধিকারিকদের জনপরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাংলায় যোগাযোগ করতে হবে।
আবেদন গ্রহণ, তার উত্তর, পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশ জারির ক্ষেত্রেও বাংলাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণ এবং নিষ্পত্তির সময়ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাংলায় যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ-সহ সমস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ কার্যকর হবে। শুধু জনমুখী পরিষেবাই নয়, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কাজেও ধাপে ধাপে বাংলার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দফতরের নথি, সরকারি চিঠিপত্র, আদেশনামা, আবেদনপত্র, বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদন বাংলায় তৈরি করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বাংলায় সরকারি কাজের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারি নেটওয়ার্ক, অনলাইন পরিষেবা, নথি সংরক্ষণ ও অনুবাদ ব্যবস্থাকে বাংলা ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা জানা কর্মী, অনুবাদক, মুদ্রাক্ষরিক, সংশোধন-পাঠক ও ভাষা-বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হবে। নির্দেশ জারির তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি বিভাগকে নিজেদের পরিকাঠামো নিয়ে সমীক্ষা করতে বলা হয়েছে।