পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে তৈরী হতে চলেছে ডিফেন্সর বিরাট উৎপাদন কেন্দ্র
বাংলার মাথায় আবার নতুন মুকুট। খবরে প্রকাশ, পুরুলিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিরক্ষা দপ্তর নতুন কিছু করতে চলেছে - আর এতে কর্ম সংস্থান হবে বিপুল। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে প্রায় ২৫৬ একর জমিতে তৈরি হবে জুপিটার ডিফেন্সের বড় মাপের সমন্বিত প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র। সেখানে তৈরি হবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং সামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকাঠামো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পের নতুন ভিত্তি তৈরি হবে। একই সঙ্গে তৈরি হতে পারে কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ছোট-বড় শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী ফেজ-২ শিল্প পার্কে এই প্রকল্প গড়ে ওঠার কথা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দফতরের আয়োজিত ‘অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ড ফর ইন্ডাস্ট্রি’ অনুষ্ঠানে জুপিটার ডিফেন্সকে এই জমি বরাদ্দ করা হয়। কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে জমি বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়।
জুপিটার ডিফেন্স হল জুপিটার ওয়াগনস গোষ্ঠীর অংশ। এতদিন রেলওয়ে সংক্রান্ত উৎপাদনের জন্য বেশি পরিচিত এই সংস্থা সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও নিজেদের ব্যবসা বাড়াচ্ছে। পুরুলিয়ার এই প্রকল্প সেই সম্প্রসারণেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই
কারখানা তৈরি হলে শুধু একটি বড় উৎপাদন কেন্দ্রই নয়, তার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ সহযোগী শিল্প-পরিকাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। বড় প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রের সঙ্গে যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা যুক্ত হতে পারে। ফলে স্থানীয় ব্যবসার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। জুপিটার ওয়াগনসের চেয়ারম্যান এমেরিটাস মুরারি লাল লোহিয়া জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।জুপিটার ওয়াগনসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবেক লোহিয়া বলেন, এই জমি বরাদ্দ শিল্পায়নের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগকে তুলে ধরে। তাঁর বক্তব্য, এই প্রকল্প ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াতে পারে।