পুরুলিয়া
টাকার বিনিময়ে চাকরি কেনার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব খাওয়ালো পুরুলিয়ার কোটশিলার বাসিন্দা ঈশ্বর
গত কয়েক বছর ধরে টাকা দিয়ে সরকারি চাকরি কেনা - একটা রুটিনে পরিনত হয়েছে। স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু হয়ে পরিবহন দপ্তর - সর্বত্র একই দৃশ্য। এবার সেই ধাক্কা পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়ার কোটশিলার বাসিন্দা পেশায় সামান্য একজন গ্যারেজ মিস্ত্রী নাম ‘ঈশ্বর কুমার’। বয়স আনুমানিক ২৪ বছর। টুকটাক মোটর সাইকেল সারানোর কাজ করেন তিনি। তাতেই সংসার চলে তার। বেশ কিছুদিন আগে ঈশ্বর কুমারকে পরিবহন দফতরে চাকরি আশ্বাস দিয়েছিলেন উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে পরিবহন দফতরের আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন সেই ব্যক্তি। তাঁর কথা বিশ্বাসও করেছিলেন ঈশ্বর কুমার। তবে চাকরির বিনিময়ে দু'লক্ষ টাকার দাবি ছিল উজ্জল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। চড়া সুদে লোন নিয়েই ভরসা করে ওই ব্যক্তির হাতে দু'লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলেন ঈশ্বর বাবু। ব্যাস তাতেই হয়ে গেল গণ্ডগোল।
ভুল বুঝতে পেরে তিনি এখন দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। ইতিমধ্যেই কোটশিলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। ঈশ্বর কুমারের অভিযোগ, মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়। সে তার দোকানে প্রায়শই আসত। সেই সূত্রেই তার পরিচয় হয় উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ছোটখাটো বিভিন্ন গাড়ির কাজ ঈশ্বরের দোকানে করাতেন উজ্জ্বল বাবু। কিন্তু হঠাৎ গত এপ্রিল মাসে উজ্জ্বল বাবু ঈশ্বর কুমারকে বলেন, ঝালদা পরিবহন দফতরের একটি নতুন অফিস হবে। কাজের জন্য সেখানে লোক লাগবে। দুই লক্ষ টাকা দিলে সেখানে কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি। প্রথমে খানিকটা খটকা লেগেছিল ঈশ্বর কুমারের। তাই তিনি প্রশ্ন করেছিলেন তিনি সামান্য এক গ্যারেজ মিস্ত্রি। আরটিও অফিসে কীভাবে চাকরি পাবেন তিনি? সেই সময় উজ্জ্বল বাবু তাকে জানিয়েছিলেন, আরটিও অফিসে অনেকেই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বাইক নিয়ে টেস্ট ড্রাইভ দিতে আসে। সেইসব বাইকের ব্রেক, ইঞ্জিন, ইত্যাদি ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্যই লোক নিয়োগ হবে। তাই গ্যারেজ মিস্ত্রি হলেও এ কাজ তার হওয়া সম্ভব। উজ্জ্বল বাবুর সেই কথাতে বিশ্বাস করেই লোন নিয়ে উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় কে টাকা দিয়েছিলেন তিনি।
