গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬: এবছর নিরাপত্তা আরও জোরদার, কড়া নজরদারিতে প্রশাসন
আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ উপলক্ষে এবছর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আগের তুলনায় আরও শক্ত করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর নিরাপদ যাত্রা ও নির্বিঘ্ন স্নানের জন্য প্রশাসন একাধিক নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সেই প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবছর মেলা এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। ইসরোর তৈরি NavIC প্রযুক্তি ব্যবহার করে গঙ্গাসাগরগামী সমস্ত বাস ও নদীপথে চলাচলকারী গাড়িকে রিয়েল টাইমে নজরে রাখা হবে। কোনও গাড়ি নির্ধারিত পথ থেকে সরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে ১,২০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ২০টি ড্রোনের সাহায্যে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হবে। মেলা প্রাঙ্গণ ও যাতায়াতের রাস্তায় প্রায় ৫৪ কিলোমিটার ব্যারিকেডিং করা হচ্ছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়।
দুর্যোগ মোকাবিলায় এবছর বাহিনীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ২,৫০০ সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী প্রস্তুত থাকবে। নদীপথে নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে বিশেষ আলো ও টাওয়ার, যাতে কুয়াশার মধ্যেও গাড়ি চলাচল নিরাপদ থাকে। পাশাপাশি, কৌশলগত জায়গায় রাখা হচ্ছে ১৮টি অস্থায়ী ফায়ার স্টেশন।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গঙ্গাসাগর ও আশপাশে তৈরি হচ্ছে ৫টি অস্থায়ী হাসপাতাল। মোট ৫৪০টি বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য থাকবে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স, জল অ্যাম্বুল্যান্স ও প্রায় ১০০টি সাধারণ অ্যাম্বুল্যান্স।
প্রশাসনের দাবি, এবছর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আগের যে কোনও বছরের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত। পুণ্যার্থীরা যাতে নিশ্চিন্তে গঙ্গাসাগরে এসে পুণ্যস্নান করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বাড়তি প্রস্তুতি।
