মুখ্যসচিব পদে মেয়াদ শেষ হলেও নবান্নের চোদ্দ তলাতেই রইলেন মনোজ, রাজীবের কী হবে?
দেওয়াল লিখন আগেই পড়া যাচ্ছিল। হলও তাই। মুখ্য সচিব পদে মনোজ পন্থের (Manoj Pant) মেয়াদ শেষ হল বুধবার ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু একই দিনে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে রয়েছেন গৌতম সান্যাল। তাঁর সঙ্গেই একই পদ মর্যাদায় থাকবেন মনোজও। তবে নবান্নের করিডরে অনেকেই মনে করছেন, বয়সের কারণে গৌতম যখন অনেকটাই ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন, তখন চোদ্দ তলায় ক্রমশই মুখ্য চরিত্র হয়ে উঠতে পারেন নতুন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মনোজ পন্থ।
মুখ্য সচিব পদে মনোজ পন্থের মেয়াদ ৬ মাস আগেই শেষ হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে তাঁর মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়েছিল কেন্দ্রের কর্মিবর্গ মন্ত্রক। তাঁর মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি হয়নি দিল্লি। তাই রাজ্যের নতুন মুখ্য সচিব করা হয়েছে এদিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র সচিব পদে থাকা নন্দিনী চক্রবর্তীকে। বাংলায় প্রথম মহিলা মুখ্য সচিব হলেন তিনি। আর নতুন স্বরাষ্ট্র সচিব হলেন জগদীশ প্রসাদ মিনা।
ফিরে আসা যাক মনোজ পন্থের প্রসঙ্গে। রাজ্য প্রশাসনে ঠাণ্ডা মাথার আমলা বলে পরিচিত মনোজের কেরিয়ার যথেষ্টই উজ্জ্বল। এক সময়ে মুর্শিদাবাদের জেলা শাসক ছিলেন তিনি। তখনই তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সুনজরে পড়েন মনোজ। কেন্দ্রে ইউপিএ জমানায় প্রণব যখন অলিখিত ‘নাম্বার টু’ তখন দীর্ঘ সময় তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন মনোজ পন্থ। পরে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সদর দফতর ওয়াশিংটনে নয়াদিল্লির প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
নবান্নের একাধিক শীর্ষ আমলার কথায়, রাজ্যের অর্থ সচিব থাকার সময় থেকেই মনোজের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালমিল ও বোঝাপড়া বাড়তে থাকে। বড় কথা হল, বরাবরই বিতর্কের উর্ধ্বে ছিলেন মনোজ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও তাঁর সম্পর্কে তেমন কোনও অভিযোগ করেনি। তা ছাড়া আরজি কর অধ্যায়ের সময়েও মনোজ খুবই দক্ষতা ও ধৈর্য্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছিলেন বলে অনেকে মনে করেন।
অবসরপ্রাপ্ত এক আমলার কথায়, মনে রাখতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি গৌতম সান্যাল আইএএস ক্যাডারের অফিসার নন। তিনি ছিলেন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিসেসের অফিসার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেল মন্ত্রী থাকার সময়ে গৌতম তাঁর ওএসডি ছিলেন। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর সেই বোঝাপড়ার সুবাদেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গৌতম সান্যালকে নবান্নে নিয়ে আসেন। অর্থাৎ গৌতমের তুলনায় মনোজ অনেক বেশি ডেকরেটেড অফিসার। তা ছাড়া গৌতম সান্যালের এখন অনেক বয়সও হয়েছে।
বর্তমান মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর তুলনাতেও মনোজ অনেক সিনিয়ার। নন্দিনী হলেন ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। ১৯৯১ ব্যাচের আইএএস অফিসার ছিলেন মনোজ। অনেকের মতে, তাই নবান্নে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে থেকে আসলে মনোজই হবে সুপার চিফ সেক্রেটারি। মনোজের ধাতে অবশ্য ছড়ি ঘোরানোর স্বভাব বা অন্যের কাজে নাক গলানোর অভ্যেস নেই। তবে প্রশাসনিক ব্যাপারে তিনি যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অন্যতম ভরসার পাত্র হয়ে থাকবেন এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
নতুন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে মনোজ পন্থকে নিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের অন্দরে আরও একজনকে নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ রাজীবের কর্মজীবনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এখন দেখার তাঁকেও নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা সেই গোত্রের কোনও পদ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেখে দেন কিনা। অতীতে এমন নজিরও কিন্তু রয়েছে।
.jpeg)