দেশের প্রথম নেতাজির মূর্তি স্থাপিত হয় জলপাইগুড়িতে - সরকারি উদ্যোগে সেই মূর্তি এবার সংরক্ষিত হতে চলেছে
আজ, ২৩ জানুয়ারী নেতাজির ১২৯ তম জন্মদিন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হচ্ছে। সেই মুহূর্তেই জলপাইগুড়ি শহরে নেতাজি মূর্তি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। বরাদ্দ ৮২ লক্ষ টাকা। শহরের করলা নদীর পাড়ে এটিই দেশের মধ্যে স্থাপিত নেতাজির প্রথম মর্মর মূর্তি। ১৯৫১ সালে নেতাজির ৫৪তম জন্মদিনে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা স্বাধীনতা সংগ্রামী কবিরাজ সতীশচন্দ্র লাহিড়ী মূর্তিটি স্থাপন করেন। মূর্তির পাশে রাখা ইম্ফলে নিহত আজাদ হিন্দ সৈনিকদের অস্থি, চিতাভস্ম।নেতাজি মূর্তি স্থাপনের পঁচাত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে সংরক্ষণ কেন্দ্র সংস্কার-সহ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। শুরু হয়েছে কাজ। বাইরে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ডে’র মাধ্যমে তুলে ধরা হবে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ বাহিনীর নানা কর্মকাণ্ড। পাশেই তৈরি করা হচ্ছে ‘সেলফি জোন’। সেখানে লেখা থাকবে ‘আই স্যালুট নেতাজি অ্যান্ড আজাদ হিন্দ সোলজার’।
সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতাজির এই মর্মর মূর্তি আগলে রেখেছে জলপাইগুড়ির নেতাজি সুভাষ ফাউন্ডেশন। এবার ফাউন্ডেশন ভবন সংস্কার করে মূর্তি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, “নানা ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী ওই মুর্তি। নেতাজির প্রতি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা রয়েছে। তাই ওই মূর্তিটি যাতে সাধারণ মানুষ দেখতে পারেন তার জন্যই এই পদক্ষেপ।” তথ্য বলছে, দু’বার জলপাইগুড়ি শহরে এসেছিলেন নেতাজি সুভাষ। প্রথমবার ১৯২৮ সালে। নেমেছিলেন জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে। দ্বিতীয়বার ১৯৩৯ সালে। শহরের বুকে দাঁড়িয়ে ইংরেজদের ভারত ছাড়া করার ডাক দেন। দেশ নায়কের ১৩০তম জন্মজয়ন্তীর আগে নিজেদের সংগ্রহে রাখা প্রথম নেতাজির মূর্তি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় খুশি ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
