২৪ ঘন্টাতেই অনশন তুলে নিলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ
আজ বীরবিপ্লবি নেতাজির ১২৯ তম জন্মদিন। আজ বাঙালির আবেগের সরস্বতী পুজো। আর এর মধ্যে আর হয়তো কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ২৪ ঘন্টা পরে আনশন তুলে নিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অনশন তুলে নিয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মালা দেন। তারপরই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করেন শিলিগুড়ির বিধায়ক।
গতকাল সকালে শিলিগুড়ির হাতিমোড়ে ২৪ ঘণ্টার অনশনে বসেন তিনি। গতকাল তিনি জানিয়েছিলেন, বিধায়কদের পাঁচ বছরে তিন কোটি টাকা করে তহবিল পান বিধায়করা। শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, এই বিধায়ক তহবিলের টাকা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও আবার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। অন্তত নয়টি প্রকল্প, যেগুলি ছাড়পত্র পেয়েছিল কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। তিনি বারবার ডেপুটেশন জমা দিলেও কোনও লাভ হয়নি। রাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় শিলিগুড়ি পৌরনিগম বাধা দিচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাই অনশনে বসেন তিনি। নেতাজির জন্মদিনে খুব সচেতনভাবে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন শঙ্কর। তৃণমূল নেতা গৌতম দেবও পিছিয়ে নেই।
এদিন সকালে অনশন তুলে নিয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আজ নেতাজির জন্মদিন। নেতাজি যেভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করে গিয়েছিলেন। ঠিক আজকের পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি এই অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে পেয়েছি। পথচলতি মানুষ বলেছেন, দাদা পারতেই হবে। এদের সরাতে হবে। এটা আমার কাছে আশীর্বাদ।” একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “আজ আমি বিরোধী। কাল আমরা সরকারে বসব। বিরোধীদের যেন এই দশা না হয়। আজ নেতাজির জন্মদিনে এই উপলব্ধি নিয়েই অনশন ভাঙলাম।”শঙ্কর ঘোষের অনশন নিয়ে শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র গৌতম দেব বলেন, “তাঁর সিপিএম থেকে বিজেপিতে আসার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাটা জানতে চাই। আর এতই যদি জনপ্রিয় বিধায়ক, তাহলে পৌরনিগম নির্বাচনে নিজের ওয়ার্ডে তৃতীয় হলেন কেন? সেটা বলুন। উনি তো শিলিগুড়ি পৌরনিগমের কাউন্সিলরও ছিলেন।”
