Type Here to Get Search Results !

বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬ - বাংলার রাজনৈতিক আকাশে ঘটনার ঘনঘটা

 সম্পাদকীয় 



বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬ - বাংলার রাজনৈতিক আকাশে ঘটনার ঘনঘটা 


  নানা ঘটনা প্রবাহের পরে 'বছরের শেষ সূর্য' অস্তমিত হলো। নতুন সূর্যে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো ২০২৬ সলের প্রথম সকাল। ঠিক সেই সময় আমরা স্মরণ করবো ২০২৫ সালের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা।


  * শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কোর্টের ধাক্কায় রাজ্য - চলতি বছরেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জোর ধাক্কা খায় রাজ্য সরকার। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল নজিরবিহীন রায় দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ে পাকাপাকিভাবে চাকরি বাতিল হয়ে যায় এসএসসি-র প্রায় ২৬ হাজার চাকরি। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্যানেলই খারিজ করে দেয়। এই রায়ের ফলে এক ধাক্কায় চাকরি হারান বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী। তারপর বারবার এই রায় পুর্নবিবেচনার আবেদন জানানো হলেও আর ফেরেনি চাকরি। 


  * নজরে বীরভূমের বেতাজ বাদসা অনুব্রত - ২০২৫ সালের মে মাসের শেষ দিকে বোলপুর থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ (IC) লিটন হালদারকে ফোন করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠল বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বাড়ির মহিলাদের নিয়েও কুকথা বলার অভিযোগ উঠল কেষ্টর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল সেই ক্লিপ।


   * আইনহীন আইনকলেজ - আরজি করের ঘটনার পর ফের হিন্দোল ওঠে কসবা ল কলেজের ঘটনায়। গত ২৫ জুন কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে গণধর্ষণের শিকার হন প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী। মূল অভিযুক্ত কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র বলে জানা যায়। তিনি আবার কলেজেরই অস্থায়ী কর্মী। তাঁর সঙ্গে জুড়ে যায় শাসকদলের নাম। জুড়ে যায় তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের নাম। তাঁকে অপরাধে মদত দিয়েছিল কলেজেরই দুই ছাত্র। জড়ায় এক নিরাপত্তা রক্ষীরও নাম। গোটা ঘটনায় ফের রাস্তায় নামে শহরের মানুষ। প্রশ্ন ওঠে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করে পুলিশ। 


  * তামান্নার মায়ের চোখের জল - উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী আলিফা খাতুনের জয় নিশ্চিত হতেই বেরিয়ে পড়েছিল তৃণমূলের বিজয় মিছিল। অভিযোগ সেই মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমার আঘাতেই প্রাণটাই চলে গিয়েছিল ক্লাস ফোরের ছাত্রী তামান্নার। উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিনে নদিয়ার কালীগঞ্জের ওই ঘটনায় মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল পরিবার। এ ঘটনাতে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। 


  * নতুন দল হুমায়ুনর - বারবার বিতর্কিত মন্তব্য, বারবার নিজেরই দলের নেতাদের চাঁচাছোলা আক্রমণ, বারবার তোপ! দিনের শেষে রেজাল্ট একটাই — সাসপেনশন। গোটা বছরই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে রাজ্য রাজনীতিতে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। তবে দিনের শেষে হুমায়ুন ছিলেন হুমায়ুনেই। তোপ দেগেছেন খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শেষে আবার খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তারইমধ্যে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ককে সামনে রেখে খুলে ফেললেন নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.