বাম শাসনামলে শিক্ষা দফতরে অনিয়মের নিয়োগ, হাইকোর্ট তদন্তের সবুজ আলো
বামফ্রন্ট সরকারের শেষদিকে শিক্ষা দফতরে ‘অনৈতিক’ নিয়োগের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর প্রভাবে আইন লঙ্ঘন করে চাকরি দেওয়ার ঘটনায় বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার আবেদন খারিজ করে বলেন, এমন কাজে সরকারি কোষাগারের টাকা বিলি করা গেছে।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানার শেষলগ্নে, ২০১০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপে’ শিক্ষা দফতরের সচিবালয়ে সহকারী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান জনৈক তিথি অধিকারী। নিয়োগ নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত বেতন নিয়ে কাজ করেন। চাকরি যাওয়ার পর পুনর্বহালের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি।বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের রায়ে বলা হয়েছে, ‘আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য চাইলে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করতে পারে।’ এতে বাম শাসনামলের শিক্ষা খাতের কারচুপির পর্দা উঠল।তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ায় সরকারি উৎসরা জানান, ‘বামের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তদন্ত করব এবং দোষীদের শাস্তি দেব। এমন অনিয়ম আর সহ্য করব না।’ দলের এক নেতা বলেন, ‘বুদ্ধদেব জমানায় হাজারো চাকরি কারচুপিতে বিলুপ্ত হয়েছে। এটি তার প্রমাণ।’বিএমসি-এর এক কর্মী বলেন, ‘এমন নিয়োগে সাধারণ মানুষের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়। তদন্তে সবাইকে জড়ানো উচিত।’ বিরোধী দলগুলো চুপ রয়েছে। রাজ্য সরকার এখন তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
