আজ থেকে মিনি কুম্ভ হতে চলেছে হুগলির ত্রিবেণী সঙ্গমে
একদম শীতের শেষে আবার এক হিন্দু ধৰ্মীয় উৎসব। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে এই উৎসবে। বুধবার থেকে শুরু চলবে এই মেলা। চলবে তিনদিন। মাঘ সংক্রান্তিতে হবে পুণ্যস্নান। ইতিমধ্যেই হুগলির ত্রিবেণী সঙ্গমে পঞ্চমবর্ষে কুম্ভমেলায় এসে পৌঁছে গিয়েছে প্রয়াগের জল। বস্তুত, ত্রিবেণীকে বলা হয় মুক্তবেণী আর প্রয়াগকে বলা হয় যুক্ত বেণী। আবার প্রয়াগ যদি হয়, উত্তরের কুম্ভ তবে দক্ষিণের কুম্ভ হল ত্রিবেণী। আর সেই ত্রিবেণীতেই হবে কুম্ভমেলা।
পৌরাণিক কাল থেকেই ত্রিবেণীর মাহাত্ম্য রয়েছে। পুরাণ মতে বেহুলা লক্ষ্মীন্দরকে নিয়ে গঙ্গাবক্ষ দিয়ে যাওয়ার সময় ত্রিবেণী ঘাটে দাঁড়িয়েছিলেন। এক সময় বাণিজ্য বন্দর ছিল সপ্তগ্রাম, ত্রিবেণী। তবে সেই সপ্তগ্রামেই বর্গি হানায় ত্রিবেণীর অনেক স্মৃতিচিহ্ন নষ্ট হয়ে যায়। যদিও, এখনো নেতা ধোপানীর ঘাট রয়েছে। প্রাচীন মন্দির রয়েছে। সেই কারণে মকর সংক্রান্তিতে সাধুসন্তরা গঙ্গাসাগর যান। সেখানে পুণ্যস্নান করেন। তারপর ত্রিবেণীতে এসে মাঘীস্নান করেন। তখনকার দিনে গঙ্গাস্নান থেকে ফিরতে সাধুদের এক মাস সময় লেগে যেত। কারণ রাস্তাঘাটের ভাল ব্যবস্থা ছিল না। তারা ফিরে যে যার আশ্রমে যেতেন। সেই ত্রিবেণীতেই এবার পঞ্চম বছর হবে কুম্ভস্নান। কুম্ভস্নান নিয়ে সাধুসন্তদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ। হাজার হাজার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ত্রিবেণীতে পুণ্যস্নান করবেন।
এই মিনি কুম্ভ নিয়ে উৎসাহের অভাব নেই। মাঘ মাসের সংক্রান্তির দিন হবে কুম্ভস্নান। যাকে বলে অমৃত যুগস্নান।
স্নানকে কেন্দ্র করেই উৎসব তার আগে দুদিন ধরে চলে।
১১ তারিখ শিবপুর স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে গীতাযজ্ঞ হবে।
১২ তারিখ রুদ্রাভিষেক যজ্ঞ এবং মহাদেবের সহস্রনাম হবে।
পাশাপাশি আরআর ক্যাম্পে সাধুদের আখড়ায় ৫২ টি পীঠের কল্পনা করে ধুনী জ্বালাবেন।
১৩ তারিখ স্নান। তার আগে সাধুদের রাজসিক যাত্রা হবে। সেই যাত্রার সমাপ্তি হবে সপ্তর্ষি ঘাটে। স্বামী শিবানন্দ মহারাজ বলেন, “আজ থেকে সাধুরা আসতে শুরু করেছে। আগামিকাল থেকে শুরু হবে কার্যক্রম। ১১- ১৩ তিন দিন ধরে হবে কুম্ভ। ১৩ তারিখ হবে পুণ্যস্নান।"
