মঙ্গলবার রাতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমাবাজি - গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ
তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল কিছুতেই কমছে না। ভোটের আগেও সর্বত্র আভ্যন্তরিন গন্ডগোলে উত্যক্ত হয়ে উঠেছে বাংলা। এবারের ঘটনা বসিরহাট। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলেরই ওই ‘দাপুটে’ কাউন্সিলর। আবার ঘটনাটি নিয়ে শাসকদলকে বিঁধেছে গেরুয়া শিবির। বসিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিত মজুমদারের বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে বোমাবাজি হয়। বোমার তীব্র আওয়াজে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কাউন্সিলরের পরিবারের লোকজনও। খবর পেয়ে আসে বসিরহাট থানার পুলিশ। এবং নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে দলের কাউন্সিলরের বাড়িতে আসেন বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়।
এলাকার দাপুটে এবং প্রবীণ তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে বোমাবাজি নিয়ে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। অসিত মজুমদার পাঁচ দশকের বেশি রাজনীতি করছেন। তাঁর স্ত্রীও একসময় বসিরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। কারা তাঁর বাড়িতে বোমা মারল, এই প্রশ্ন উঠেছে। এই নিয়ে অসিত মজুমদার বলেন, “লোকজন বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁরা চলে যাওয়ার পর সবেমাত্র কাগজ পড়তে যাব, তখন বিস্ফোরণ হয়। কারা বোমা মারল, তা পুলিশ বলবে। আমি বলব কীভাবে? তবে আমার রাজনৈতিক জীবনে এ জিনিস দেখিনি। বসিরহাটে এই সংস্কৃতি ছিল না। যারা করছে, পুলিশ নিশ্চিত জানে। বসিরহাটের মানুষের কোনও নিরাপত্তা নেই বলে আমার মনে হয়। আমরা জনপ্রতিনিধি, আমাদেরই নিরাপত্তা নেই। তাহলে সাধারণ মানুষের কী নিরাপত্তা রয়েছে?” দলের কাউন্সিলরের বাড়িতে বোমাবাজি নিয়ে বসিরহাটের তৃণমূল নেতা সুবীর সরকার বলেন, “বাড়ির পিছনের দরজায় বোমা মারা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা দুষ্কৃতীদেরই কাজ। অসিতবাবুর হাত ধরে আমাদের মতো অনেকের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। রাজনীতির পীঠস্থান তাঁর বাড়ি। তাঁর বাড়িতেই যদি দুষ্কৃতীরা বোমা মারে, তাহলে এর পর অন্য কারও বাড়িতে বোমা মারা হবে না, এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। আমরা চাই, পুলিশ ব্যবস্থা নিক।”
