অফবিট
বিয়ে করতে গিয়ে 'দুধ পিলাই' অনুষ্ঠান প্রচলিত রাজস্থানে
ভারত এক বিশাল দেশ। অজস্র বৈচিত্রে ভরা তার নানা নিয়ম। তেমনই এক রীতির নাম 'দুধ পিলাই'। রাজস্থানি বিয়ে মানেই মহা ধুমধাম, অতি আড়ম্বর। ভারতের যেকোনও রাজ্যের মতোই এখানেও রয়েছে বিয়ের বিশেষ কিছু রীতিনীতি, যা অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে অনন্য। তারই অন্যতম ‘দুধ পিলাই’! সাম্প্রতিককালে সোশাল মিডিয়ায় এই বিশেষ আচারটির কিছু ছবি ভাইরাল হতে, নানা প্রশ্ন জেগেছে নেটনাগরিকদের মনে। এই রীতি অন্যদের চোখে অদ্ভুত লাগলেও, রাজস্থানের চিরকালীন বাসিন্দাদের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক। বরং তা এড়িয়ে গেলে বিয়ের আচার সম্পূর্ণই হয় না। শতাব্দী-প্রাচীন ‘দুধ পিলাই’ আজও দেখা যায় প্রত্যেকটি মাড়োয়ারি বিয়েতে। বিয়ের পাত্রটি যখন বরযাত্রী-সমেত কনের বাড়ির উদ্দেশে বেরনোর জন্য প্রস্তুত হয়, তখন অনুষ্ঠিত হয় ‘দুধ পিলাই’। এ সময়ে পাত্র ছাড়া, উপস্থিত থাকেন কেবল পরিবারের মহিলা সদস্যরাই। স্থানবিশেষে অবশ্য পুরুষ সদস্যদেরও দেখতে মেলে।
স্ত্রীকে আনতে যাওয়ার আগে, শেষবারের মতো পাত্রের মা দুধ খাওয়ান সন্তানকে। ছেলের মাথাটি মা নিজের হাতে ধরে বুকের কাছে নিয়ে আসেন, যেমনভাবে শিশুকালে সন্তান স্তনপান করে মায়ের। যদিও এই রীতি প্রতীকী। মনে করা হয়, পোশাকের আবরণ সরিয়ে সন্তানকে দুধ খাওয়াচ্ছেন মা। এরপরই সে আর ছোট্ট ছেলেটি নয়, বরং দায়িত্বশীল স্বামীর জীবনে পা রাখবে। মায়ের স্নেহময় আঁচলের আর প্রয়োজন পড়বে না তার। তবে তাঁকে বড় করে তুলতে মায়ের আজীবনের যে ত্যাগ, তার প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকবে সন্তান। কৃতজ্ঞতা জানাতেই ‘দুধ পিলাইয়ের’ বিনিময়ে সন্তান মায়ের হাতে তুলে দেয় বিশেষ কোনও উপহার। মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে তারপর ঘোড়ায় চেপে বসে। রাজকীয় সাজে ঘোড়াটি লোকলস্কর পরিবেষ্টিত হয়ে, এগিয়ে চলে কনের বাড়ির দিকে।
