ধানের শিষ বা কোদাল বেলচা নয়, মালদার সিপিএম আঁকতে চায় কাস্তে হাতুড়ি
অন্যান্য দলের মতো বামফ্রেন্টের আভ্যন্তরিন কোন্দল কখনোই প্রকাশ্যে আসতো না। কিন্তু এবার তাও এসেছে। মোটা কথা সিপিএমের নিচুতলার নেতা কর্মীরা আর 'ফ্রন্টের' উপর বিশ্বাস রাখছে না। তারা চায় সিপিএম একাই ভোটে ভোটে লড়ুক। গত সোমবার বামফ্রন্ট আংশিকভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। মালদহ জেলার মোট ১২টি আসনের মধ্যে ৪টি ফাঁকা রেখে ৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। যার মধ্যে সিপিএমের প্রার্থী ৬ জন। সিপিআই ও আরএসপির একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। বৈষ্ণবনগরে আরএসপি এবং মালদহ বিধানসভায় সিপিআই প্রার্থী লড়ছেন। সিপিএমের একাংশের দাবি, শরিক দুই দলের দুই প্রার্থীর সমর্থনে ভোট প্রচারে নারাজ দলের পার্টি সদস্য ও কর্মীরা।
তাঁরা মালদহ বিধানসভা আসনে সিপিআই প্রার্থী চান না। বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও আরএসপি প্রার্থীর পরিবর্তে তাঁরা চান সিপিএম দলের প্রার্থীকেই। দুই কেন্দ্রেই অবিলম্বে প্রার্থীদের প্রতীক বদল করতে হবে। এমনকী এই দাবি না মানলে পুরনো মালদহের দুই শতাধিক পার্টি সদস্য গণ ইস্তফা দিয়ে ফেলবেন বলেও ফ্রন্ট নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিপিএম সদস্যরা। দেওয়াল লিখনে ‘ধানের শিষে’র বদলে তাঁরা আঁকছেন ‘হাতুড়ি তারা’! বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও তাঁরা আরএসপি প্রার্থীর সমর্থনে ‘কোদাল বেলচা’ আঁকতে নারাজ। এনিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জেলার বাম নেতৃত্ব। ওই দুই শরিক দলের নেতারাও ক্ষোভে ফুঁসছেন। বামফ্রন্ট সূত্রে খবর, মালদহ বিধানসভা আসনটি বাম শরিক দল সিপিআইকে ছাড়া হয়েছে। সেখানে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই প্রার্থী হিসাবে দীপক বর্মনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সিপিএম পার্টি সদস্যদের একাংশ দলীয় কর্মীদের নিয়ে পুরাতন মালদহ এলাকায় সিপিআই প্রার্থী ও তাঁর নাম ফাঁকা রেখেই দেওয়াল লিখন করছেন। সেই সিপিএম সদস্যদের অভিযোগ, এখানে সিপিআইয়ের কোনও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই। সারাবছর সিপিএম লড়াই আন্দোলন করে।
