শেষ পর্যন্ত কি বামেরা জোট পুরোপুরি ঠিক করতে পারলো?
৩৪ বছর বামেরা জোট করে একটা রাজ্যে সরকার চালিয়েছে - যা একটা ইতিহাস। কিন্তু তখন বামেরা ছিল শাসকের আসনে। এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। ফলে জোট নিয়ে তৈরী হয়েছে নানা সমস্যা। জোট নিয়ে আলিমুদ্দিনের অন্দরে অল্পবিস্তর জট ছিলই। তা জটিল হয়ে ওঠে ISF মধ্যমগ্রামে প্রার্থী ঘোষণা করার পর। নওশাদের দলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লকও ওই কেন্দ্রেই নিতাই পালক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আবার অপর বাম শরিক RSP-র দাবি, ISF বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। একদিকে, যখন বামফ্রন্টের মধ্যে ISF-কে নিয়ে উষ্মা, অন্যদিকে তখন আসন সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন চেয়ারম্যান বিমান বসু। বুধবার বিমান বসুর ঘোষণা অনুযায়ী, CPIML এবং ISF-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বামফ্রন্টের। এই পরিস্থিতিতে কি আদৌ কোনো জোট সম্ভব?
আসন সমঝোতা অনুযায়ী, ISF ৩০টি আসনে লড়ছে। ৮টি আসনে লড়ছে CPIML। বিমান বসু আরও জানিয়েছেন, ২৯৪ আসনের মধ্যে সেক্ষেত্রে বামফ্রন্ট লড়ছে ২৫২ আসনে। যার মধ্যে CPIM ১৯৫, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩, CPI এবং RSP ১৬টা করে এবং RCPI এবং মার্কসিস্ট ফরওয়ার্ড ব্লক একটি করে আসনে লড়ছে। ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বলেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জের এবং একইসঙ্গে প্রতিশ্রুতিরও। ওয়েস্ট বেঙ্গল সোস্যালিস্ট পার্টিরও এক প্রার্থীকে আমরা সমর্থন করছি। এছাড়াও গণতান্ত্রিক এবং সামাজিক অর্গানাইজেশনের আরও ৩ প্রার্থীর প্রতিও আমাদের সমর্থন থাকবে।'
এদিকে, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যমগ্রাম আসনে তাঁদের প্রার্থী নিতাই পাল। দলের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, 'সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ২০২১ সাল থেকে আমাদের পার্টি ISF-এর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে। কিন্তু বামফ্রন্টের শরিক হিসেবে আমাদের কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আমাদের পার্টিকে মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য করা হল।'
