Type Here to Get Search Results !

তাড়াহুড়ো করে নয়, নিজের মন নিজের মধ্যে এনেই, একাত্ম হয়ে পুজো করতে বসুন

 পুজোকথা 


তাড়াহুড়ো করে নয়, নিজের মন নিজের মধ্যে এনেই, একাত্ম হয়ে পুজো করতে বসুন 



  সংসারের নানা ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় আমরা পুজো করাকে কিছুটা অবহেলা করে ফেলি। অফিস, সংসার আর হাজারো দায়বদ্ধতার ভিড়ে নিজের জন্য সময় পাওয়াই যেখানে বিলাসিতা, সেখানে ভক্তিভরে ঠাকুরঘরে বসার ফুরসত কোথায়? অনেকেই তাই স্নান সেরে ভিজে চুলে দৌড়াতে দৌড়াতে কোনওমতে দুটো ফুল ছুড়ে বা ধূপ জ্বেলে প্রণাম সেরে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু মনে খচখচানিটা থেকেই যায়— ‘এভাবে তাড়াহুড়ো করে পুজো করলে ভগবান কি রুষ্ট হবেন?’ শাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিক বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে ঠিক কী বলছেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক। 


   আসলে পুজো মানে শুধু ফুল-বেলপাতা অর্পণ করা নয়, এটা হল পরমেশ্বরের সঙ্গে নিজের মনের সংযোগ স্থাপন। জ্যোতিষীদের মতে, পুজো হল অন্তরের এক গভীর অনুভূতি। আপনি যখন খুব তাড়াহুড়ো করে পুজো করেন, তখন আপনার মন মন্ত্রে বা ভগবানে থাকে না, থাকে ঘড়ির কাঁটার দিকে। আর এই মনঃসংযোগের অভাব থাকলে প্রার্থনার মূল উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হয়ে যায়। কারণ, ভক্তিহীন আরাধনা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছয় না বললেই চলে।


  * তাড়াহুড়ো করলে অনেক সময় মন্ত্রের সঠিক উচ্চারণ হয় না। আবার পুজোর ছোটখাটো আচারগুলোও এড়িয়ে যাওয়া হয়। শাস্ত্র মতে, ত্রুটিপূর্ণ পুজো পূর্ণ ফল দেয় না।


  * পুজো করার অন্যতম উদ্দেশ্য হল মানসিক স্থিরতা। আপনি যদি অস্থির হয়ে পুজো করেন, তবে দিনভর সেই অস্থিরতা আপনার কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


  * যাঁদের সময়ের একান্তই অভাব, বিশেষ করে কর্মরতা মহিলারা, তাঁদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল— দীর্ঘক্ষণ ধরে পুজো করতে না পারলেও যেটুকু সময় দেবেন, সেটুকুই যেন একনিষ্ঠ হয়। পাঁচ মিনিটের আরাধনাও যদি সম্পূর্ণ মন দিয়ে করা যায়, তবে তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড়ম্বরপূর্ণ পুজোর চেয়েও বেশি ফলদায়ক।


  * ভগবানকে সন্তুষ্ট করতে আড়ম্বর নয়, প্রয়োজন শুদ্ধ মনের। তাই সময় বের করা মুশকিল হলে পুজোর আয়তন কমিয়ে ফেলুন, তবে ভক্তি থাকতে হবে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.