উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল প্রিয়দর্শিনীকে
বহু আগেই একবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন বালু কন্যা প্রিয়দর্শিনী। মন্ত্রী বালুর টাকার হিসাব করতে দিয়ে দেখা যায় প্রিয়দর্শিনীর ব্যাংকে যে প্রায় ৪ কোটি টাকা আছে তা নাকি তার এক বছরের টিউশন থেকে আয়। এবার তাকে সরতে হলো নিজস্ব পদ থেকে। বিতর্ক হয়েছে আগেও। তবে তৃণমূল আমলে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী। এবার পালাবদলের পর যখন রাজ্যের নতুন সরকার শিক্ষা দফতরের খোলনলচে বদলে ফেলার চেষ্টা করছে, সেই আবহেই পদ গেল বালু-কন্যার। বৃহস্পতিবার সকালে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সময়ও তাঁকে স্বমহিমায় দেখা গিয়েছে সাংবাদিক বৈঠকে। আর এদিন বিকেলেই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল প্রিয়দর্শিনীকে। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টের সময় তাঁকে তলব করা হয়েছিল বিকাশ ভবনে। আর সন্ধ্যার পরই বরখাস্ত করা হয় জ্যোতিপ্রিয়-কন্যাকে।
তবে তাঁকে আশুতোষ কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে রেশন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই সময় বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন প্রিয়দর্শিনী। পরে ইডি-র তদন্তে প্রিয়দর্শিনীর নামও সামনে আসতে শুরু করে। ইডি দাবি করে, যে সব ভুয়ো সংস্থায় লেনদেন হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে ডিরেক্টর হিসেবে নাম ছিল প্রিয়দর্শিনীর। যদিও তল্লাশি চালানোর সময় ওই বিষয়ে কিছু জানেন না বলেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি।রেশন দুর্নীতিতে ইডি যে তদন্ত শুরু করে, তার সূত্র ধরেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল, টিউশন পড়িয়ে কীভাবে ৩.৩৭ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন প্রিয়দর্শিনী। তাঁকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে সচিব পদে বসানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সেই সময়ও। আর এবার পদ থেকে সরানো হল তাঁকে।
