শুরু হয়ে গেছে কল্যাণ কাকলির যুদ্ধের নতুন এপিসোড
প্রত্যাশা মতোই কাজটা হয়েছে। লোকসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদোস্তিদার অপর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। কাকলির অভিযোগ, সংসদের ভিতরে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে স্পিকার (Speaker Om Birla) যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, অভিযোগপত্রে সেই আবেদন করেছেন কাকলি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এটা আসলে আফটারশক। এদিকে, নিজেরই দলের সাংসদের বিরুদ্ধে কাকলির এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরের ফাঁটল আরও চওড়া হল বলেই মনে করছেন রাজনীতির বিশ্লেষকরা। লোকসভার মুখ্য সচেতন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে বেসুরো কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বদলে মুখ্য সচেতক করা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারপরই তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে সরব হচ্ছেন কাকলি। ইতিমধ্যেই দলের একাধিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সম্প্রতি মুখ খোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। মহিলা সাংসদদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন কল্যাণের বিরুদ্ধে। গালিগালাজেরও অভিযোগ তোলেন। কিন্তু, পাল্টা কল্যাণের অভিযোগ, কাকলির মুখেই শোনা যায় কু-কথা। এবার ওই একই অভিযোগ তুলে স্পিকারের কাছে দ্বারস্থ হলেন কাকলি।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পাঠানো অভিযোগ পত্রে কাকলি লেখেন, “আপনার কাছ থেকে লোকসভার সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম্যাল অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চাইছি। লোকসভার ভিতরে আমাকে বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন কাকলি। এই ধরনের নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। এর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।” কাকলির এই প্রতিক্রিয়া আফটারশক হিসেবে দেখছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি কোনও চিঠি পাইনি। স্পিকার যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যাখা চান, তাহলে তিনি উত্তর দিয়ে দেবেন। এটা শুধুমাত্র নিজের বাজারদর বাড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।” তাঁর প্রশ্ন, চিঠিতে আজকের তারিখ অর্থাৎ ২৮ মে-র উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, আজ ছুটি, কীভাবে তিনি অভিযোগ করলেন?কল্যাণ আরও বলেন, “অভিযোগ থাকলে আগে কেন জানানো হয়নি। এতদিন পর কেন জানানো হচ্ছে? প্রথম বিষয় হল এই অভিযোগ মিথ্যে। আর এটা আফটারশক।”