শুভেন্দু কোনটা ছাড়ছেন - ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম?
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হয়তো আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে তিনি যে নন্দীগ্রামেই থাকতে চান এমন ইঙ্গিত মিলেছে। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ ভোটের ফল অনুযায়ী নন্দীগ্রামে নিজের গড় রক্ষা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানীপুরেও বিপুল ভোটে জিতেছেন তিনি। কোন আসনটি ছাড়বেন, আর কোনটি রাখবেন তিনি – তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। বুধবার নন্দীগ্রামে গিয়ে এই বিষয়ে মুখ খুললেন তিনি। শুভেন্দু এদিন জানান, “আমার দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যেটা ঠিক করবেন, সেটাই হবে। আমার মতামত যা-ই হোক, সেখানেই জানাব। আমি ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দু’জনকেই বলছি, আমি আমার কর্তব্য থেকে কিন্তু সরে যাব না। দু’টি কেন্দ্রের জন্যই আমার কর্তব্য আমি করব। বাকিটা আমার হাতে নয়।”
বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ শুভেন্দুর। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সূত্র ধরে দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছেন। বিধায়ক, সাংসদ থেকে একাধিক দপ্তরের মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। ৫৫ বছরের শুভেন্দুর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা নেহাত কম নয়। কিন্তু এরপরই কোনও কারণে তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়ে এবং শেষমেশ শিবির ছেড়ে নতুন করে কেরিয়ার তৈরি করেন পদ্ম ব্রিগেডে। সেটা ছিল ২০২০ সাল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিশ্বাসভাজন হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। তারপর থেকে বঙ্গ বিজেপির ভার ধীরে ধীরে শুভেন্দুর হাতে সঁপে দেয় দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব। ছাব্বিশের জোড়া জয়ের স্বাদ। বিজেপির বঙ্গজয়ের ‘বাজিগর’ অবশ্যই কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জে’র দ্বিতীয় পুত্র। ছাব্বিশের ভোটপরীক্ষায় অবশ্য শুভেন্দুর নিজের ‘রেজাল্ট’ও দুর্দান্ত! জোড়া কেন্দ্রে জয়! নন্দীগ্রাম থেকে ৯ হাজার ভোটে এবং ভবানীপুর থেকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ‘অপ্রতিরোধ্য’ অধিকারী পরিবারের এই সদস্য।
