Type Here to Get Search Results !

কারা কিভাবে অম্বুবাচী পালন করবেন

 কারা কিভাবে অম্বুবাচী পালন করবেন 



  আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে 

অম্বুবাচী। চলতি বছরে অম্বুবাচী শুরু হচ্ছে ২২ জুন (৭ আষাঢ়) রাত্রি ৭.৩৮ মিনিটে। সম্পাতি ২৬ জুন (১১ আষাঢ়) রাত্রি ১০.৫৭ মিনিটে। তবে ভক্তি আর নিয়মের এই অরণ্যে পা রাখার অধিকার কিন্তু সবার নেই। লৌকিক আচারে অম্বুবাচী পালনের ক্ষেত্রে রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। চাইলেই যে কেউ এই ব্রত পালন করতে পারেন না। সাধারণত বিধবা নারী, তন্ত্রসাধক, ব্রহ্মচারী এবং সাধু-সন্ন্যাসীরাই এই তিথি পালন করে থাকেন। সনাতন ধর্মে সধবা নারীদের জন্য এই ব্রত পালনের নিয়ম নেই। তাঁরা ইচ্ছা করলেও এই আচার থেকে বিরত থাকেন।


  * অম্বুবাচীর তিন দিন মা ধরিত্রীকে ‘অশুচি’ বলে গণ্য করা হয়। তাই এই সময়ে উনুনে আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। মাটির বুকেই আগুন জ্বলে। তাই ধরিত্রীকে কষ্ট না দিতেই এই প্রাচীন প্রথা। ব্রতকারীরা এই তিন দিন সম্পূর্ণ অন্নহীন থাকেন। আগুনে রান্না করা কোনও খাবার তাঁরা স্পর্শ করেন না। ফলমূল, ভেজানো সাবু আর ফলাহারেই কাটে তাঁদের দিন।


  * নিয়মের কড়াকড়ি রয়েছে প্রাত্যহিক জীবনেও। এই সময়ে ব্যবহৃত পোশাক বা বিছানার চাদর অন্য কোনও শুদ্ধ বস্ত্রের সঙ্গে ছোঁয়ানো যায় না। শরীরী শুদ্ধির ক্ষেত্রেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তিন দিন ধরে তেল, সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করা বারণ।


  * এই বিশেষ তিন দিন বাড়ির দেবদেবীরাও থাকেন নিভৃতে। ঘরের সমস্ত দেবীর মুখ লাল কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়। দেবীর রূপ দর্শন এই সময়ে নিষিদ্ধ। তিন দিন পর, অম্বুবাচীর তিথি কাটলে শুরু হয় শুদ্ধিকরণ। সবার আগে ধুয়ে ফেলা হয় ঘরের জামাকাপড় ও বিছানার চাদর। তারপর ব্রতকারীরা সাবান-শ্যাম্পু মেখে স্নান করে শুদ্ধ হন।


  * শেষে আসে দেবীদের শুচিতার পালা। লাল কাপড় সরিয়ে দেবতাদের স্নান করানো হয়। পরানো হয় নতুন বস্ত্র। সারা ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে তবেই ভাঙা হয় অম্বুবাচীর ব্রত। প্রকৃতির এই পুনর্জন্মের উৎসব এভাবেই মিলেমিশে রয়েছে সনাতন ভক্তি ও লোকাচারে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.