পার্কসার্কাসের একটি রাস্তার নাম বদলে রাখা হচ্ছে গোপাল পাঁঠার নামে
পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পাল্টে রাখা হচ্ছে গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড। কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এই নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এই সিদ্ধান্তের জন্য কলকাতা পৌরনিগমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, ক্ষমতায় এসেই গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নাম রেখে তাঁকে সম্মান জানাল বিজেপি সরকার। ১৯৩৩ সালে পার্ক সার্কাসের এই রাস্তাটির নাম সুরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলকাতা পৌরনিগম। ১৯৩৩ সালের ২০ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলকাতা পৌরনিগম জানায়, ১৯৩৩ সালের ৮ মার্চ কলকাতা পৌরনিগমে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পার্ক সার্কাস থেকে কাশিপাড়া লেন জংশন পর্যন্ত যে ১০০ ফুট নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, তার নাম রাখা হবে সুরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ। রাস্তাটি তৈরি করেছে ক্যালকাটা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই রাস্তাতেই রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যর হাসান সুরাওয়ার্দির বাড়ি।
১৯৪৬ সালে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-র কথা প্রায়ই বলে থাকে বিজেপি। ১৯৪৬ সালে হিন্দু হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। হিন্দুদের মসিহা হয়ে উঠেছিলেন। হিন্দুদের রক্ষা করতে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। বউবাজারের মলঙ্গালেন নিবাসী গোপালদের একটি পারবারিক পাঁঠার দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিটে। পেশায় তিনি একজন কসাই। সেই জন্য তাঁকে গোপাল পাঁঠা বলা হত।গত বছরের অগস্টে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এ মৃতদের স্মরণে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাতে ছিল গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবি। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট। মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বে ‘১৬ অগস্ট’কে ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে হিসাবে ঘোষণা করা হয়। রাস্তায় খোলা অস্ত্র, লাঠি নিয়ে পায়চারি করছে একদল দুষ্কৃতী। মুখে স্লোগান ‘লড় কে লেঙ্গে পাকিস্তান’। ১৬, ১৭, ১৮ নির্বিচারে চলে হত্যা। সেই সময়ে প্রত্যেক রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী(স্বাধীনতার পরে তা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যায়) হত। সেই সময়ে বাংলার প্রধানমন্ত্রী গদিতে হোসেন শাহিদ সুরাওয়ার্দি। শোনা যায় তাঁর নির্দেশে ওই সময় ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসেছিল পুলিশ। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে নিজের দলবল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নামেন গোপাল পাঁঠা। রক্ষা করেন শত শত প্রাণ। ২০০৫ সালে খানিকটা অন্তরালেই সেই গোপাল পাঁঠার মৃত্যু হয়।