পশ্চিমবঙ্গে ভিত শক্ত করছে কংগ্রেস ও বাম
পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূল ভাঙতে ভাঙতে সিন্ধু থেকে প্রায় বিন্দুতে পরিণত হয়ে চলেছে। আর সেই সুযোগেই শক্তি বাড়াচ্ছে বাম ও তৃণমূল। ১৫ বছরের ব্যবধানে এবার উলটপুরাণ। ভাঙাগড়ার খেলা তৃণমূল-বাম ও কংগ্রেসে। এপারে ভাঙছে তৃণমূল। ওপারে গড়ছে বাম-কংগ্রেস। নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রতিদিনই ভাঙছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল। চোখের নিমেষে পালটি পুরনো সৈনিকেদের। আজ যিনি পাশে থেকে হাত ধরে হাঁটছেন, পরদিন তিনিই অন্য পথে। বিপরীত চিত্র বাম ও কংগ্রেস শিবিরে। যে বাম ও কংগ্রেস জমি কেড়ে মাটি শক্ত করেছিল তৃণমূল। পরাজয়ের পর নদী ভাঙনের মতো ধস নেমেছে প্রাক্তনীর জমিতে। সেই জমিতেই নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছে বাম ও কংগ্রেস। পুরনো ঘরে প্রবেশর পথ খুঁজছেন মমতার আস্থাভাজন সৈনিকরা। রাজ্যে তৈরি হচ্ছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ দেড় দশক বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা গেলেও ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং বিভিন্ন স্তরে নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের দলত্যাগ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার ফলে বিরোধী শিবির, বিশেষত বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস, নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ, দুর্নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ বিরোধীদের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। বহু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল ছেড়ে আসা কর্মীদের একাংশ বামপন্থী বা কংগ্রেসের সংগঠনে যুক্ত হয়ে এলাকাভিত্তিক আন্দোলন ও জনসংযোগ কর্মসূচিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।