'কালীঘাট তৃণমূলের’ রাজ্য সভানেত্রীর পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা - ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মমতা
'একে একে নিভিছে ডিউটি'! মমতার পাশে যারা ছিলেন সকলেই প্রিয় চলে গেছেন ঋতব্রত শিবিরে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শনিবার সকালে তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করে বিকেলেই ছেলেগেলেন ঋতব্রত শিবিরে।
এদিন ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, “আজকে একজনকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। উনি অনেকদিন ধরেই আমাকে বলছিলেন, পদত্যাগ করবেন। কারণ, ওঁর ছেলে গিয়ে ইতিমধ্যে হাত মিলিয়েছেন। আমার তার জন্য কিছু বলার নেই। ভালো বুঝেছেন, হাত মিলিয়েছেন। কারণ, ওদের অনেক লাগেজ-ব্যাগেজ থাকতে পারে। কিন্তু, আমি তো হাত মেলাইনি। আমি তো হাত মেলাব না। আপনারা একজন কোথায় গেলেন, আমি তোয়াক্কা করি না। আমি আপনাদের উপেক্ষা করি। কারণ, আমি নেতা চাই না। আমি কর্মী চাই। আমি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থেকে যেন বঞ্চিত না হই। আমার কারও বিরুদ্ধে ক্ষোভ নেই। আমি কখনও যেমন উতলা হই না। তেমনই হাসিমুখে যেকোনও সংকট কাটিয়ে যাওয়ার লোক। কারণ, ছাত্র রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি। এবং সংগ্রাম করাই আমার জীবন। সংগ্রামী লগ্নে আমার জন্ম। এই সংগ্রামী লগ্ন থেকে লড়াইটা করব। কেউ কেউ আমার মৃত্যুকামনা করছেন। আরে, আমি এখনও অনেকদিন বেঁচে রয়েছি।”
চন্দ্রিমা পদত্যাগ করতেই মুখ খুললেন মমতা। ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সুপ্রিমো দাবি করলেন, চন্দ্রিমা অনেকদিন ধরেই পদত্যাগ কথা বলছিলেন তাঁকে। চন্দ্রিমার ছেলে সৌরভ বসুর ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের প্রসঙ্গও টেনে আনলেন মমতা। এরপরই বিদ্রোহীদের নিশানা করে মমতা বলেন, “যাঁরা এই দুর্দিনে রয়েছেন, তাঁরাই তৃণমূল কংগ্রেসের সোনার খনি। আর যাঁরা লাগেজ-ব্যাগেজ নিয়ে বিজেপির আশ্রয়ে জায়গা নিয়েছেন, প্লিজ আর যাই করুন, মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। আপনারা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন। আপনারা এই প্রতীকে জিতে এসেছেন। আর আজকে বিদ্রোহী। কীসের বিদ্রোহী?"এদিন পদত্যাগ করার পর তিনি বলেন, ““আমি আনুগত্য দেখানোর চেষ্টা করেছিলাম। কোথাও খামতি ছিল না। আমি এ ব্যাপারে নিজের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু দেখলাম, সেটাই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল। তৃণমূল ভবনে গতকাল যা ঘটেছে, সেটা নিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বললাম, উনি আমাকে বললেন, ‘ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে?’ আমি তো কিছুই তুলে দিইনি। প্রতিদিন যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণই ছিলাম। আমার কাছে কেউ আসেনি। আমার সঙ্গে ওদের দেখাও হয়নি।”
