Type Here to Get Search Results !

'কনে' সেজে ছাঁদনাতলায় আস্ত কুমির!


'কনে' সেজে ছাঁদনাতলায় আস্ত কুমির! 



  বিয়ে মানেই সানাইয়ের সুর। আলোকময় মণ্ডপ। আর লাল বেনারসিতে মোড়া লাজুক কনে। কিন্তু কনের জায়গায় যদি বসে থাকে আস্ত এক কুমির? তবে চমকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক! আজ্ঞে হ্যাঁ। চলছে ফুটবল বিশ্বকাপ। মেক্সিকোর ফুটবলাররা যখন গোল করার জন্য মরিয়া, ঠিক তখন মেক্সিকোরই আরেক সবুজ শহরের মেয়র গোলপোস্ট ছেড়ে সোজা ঢুকে পড়লেন বিয়ের মণ্ডপে! সুদূর মেক্সিকোর ওক্সাকা প্রদেশের সান পেড্রো হুয়ামেলুলা নামের উপকূলবর্তী শহরে ঘটেছে এমনই এক ঘটনা। যেখানে ধুমধাম করে এক কাইম্যান (কুমির গোত্রীয় সরীসৃপ) কন্যাকে বিয়ে করলেন খোদ শহরের মেয়র ড্যানিয়েল গুতিয়ারেজ! ফুটবল জ্বরের মাঝেই মেয়রের এই ‘আজব’ বিয়ে নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জোর শোরগোল। না,, কোনও খামখেয়ালিপনা নয়। বরং ২৩০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এক ঐতিহ্যবাহী প্রথা। মেক্সিকোর জনপদে প্রতি বছরই মহাসমারোহে এই উৎসবটি পালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই কাইম্যান মোটেও কোনও সাধারণ জীব নয়। , কোনও খামখেয়ালিপনা নয়। বরং ২৩০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এক ঐতিহ্যবাহী প্রথা। মেক্সিকোর জনপদে প্রতি বছরই মহাসমারোহে এই উৎসবটি পালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই কাইম্যান মোটেও কোনও সাধারণ জীব নয়। 


  বিয়ের আগে কনেকে সাজানোর ধুমও দেখার মতো। সাদা রঙের শুভ্র ওয়েডিং গাউন পরানো হয় তাকে। পরক্ষণেই আবার বদলে দেওয়া হয় রঙিন আদিবাসী পোশাকে। রিবন আর সুগন্ধি ফুলে মুড়ে, মুখে ফিতে বেঁধে (সুরক্ষার স্বার্থে) পুরো শহর ঘোরানো হয় নতুন কনেকে। পেছনে চলে নাচ-গান, হইহল্লা। শহরের পৃষ্ঠপোষক সন্ত সেন্ট পিটার দ্য অ্যাপোস্টলের বার্ষিক উৎসবের অংশ হিসেবেই আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান।আসলে এই প্রথার নেপথ্যে রয়েছে এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিও। লোকগাথা অনুযায়ী, বহু শতাব্দী আগে চোন্টাল এবং হুয়াভে নামের দুটি বিবদমান আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলত। পরে চোন্টাল রাজা এবং হুয়াভে রাজকুমারীর বিয়ের মাধ্যমে সেই বিবাদের অবসান ঘটে। আজকের দিনে মেয়র হলেন সেই রাজা, আর কাইম্যান-রূপী কুমিরটি হলেন সেই প্রাচীন রাজকুমারী।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.