বিরোধী সবাইকে স্বরূপ গারদে’ পুড়তে চেয়ে এখন নিজেই গারদে- অভিনেতা জয়জিৎ
টলিউডকে একসময় সম্পূর্ণ নিজের দখলে রেখেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। মাথা নত করে অনেকেই তার আশেপাশে ঘুরতেন। কিন্তু কিছু মানুষ ছিল যারা স্বরূপের কাছে মাথা নত করেন নি। জয়জিৎ তাদের মধ্যে একজন। বিশ্বাস জমানায় ‘ব্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে কম চাপানোতর হয়নি টলিউডে। সিস্টেমে থেকে প্রতিবাদী সুর চড়িয়েছিলেন খোদ সাংসদ দেব। রাজ্যে পালাবদলের আবহে বহু অভিনেতা, শিল্পী-কলাকুশলীরাও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে একে-একে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। নতুন সরকার আসার পর অনেকেই আশাবাদী যে এই নিষিদ্ধ সংস্কৃতির খাঁড়া এবার বন্ধ হবে। এমন আবহে অনেকেই কাজে ফিরেছেন। এবার বছর দুয়েক বাদে শুটিং ফ্লোরে পা রেখেই কার্যত বোমা ফাটালেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি মেকআপ রুম থেকে সোশাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাগ করে নিয়ে কাজে ফেরার কথা জানান অভিনেতা। পরনে গেঞ্জি, হাফ প্যান্ট। চোখেমুখে গাম্ভীর্য। তবে নেটভুনের চর্চায় জয়জিতের পোস্টের ক্যাপশন।
সেখানে উল্লেখ, ‘২ বছর পর আবার ফিরলাম। আটকে রাখার লোকটা এখন নিজেই আটকে আছে গরাদের ওপারে।’ এহেন ঝাঁজালো ক্যাপশনে যে জয়জিৎ ইন্ডাস্ট্রিতে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখা স্বরূপ বিশ্বাসকেই খোঁচা দিয়েছেন, তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন হয় না। কারণ তৃণমূলের দেড় দশকের শাসনকালে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই হিসেবে টলিউডে রীতিমতো পরিচালক থেকে টেকনিশিয়ান, সর্বস্তরে একাধিপত্য কায়েম করে রেখেছিলেন। মূলত’বিশ্বাস ব্রাদার্স’দের হাতেই ছিল টলিউডের কলকাঠি! কিন্তু গত ৪ জুন যৌন হেনস্থা, তোলাবাজি, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। জয়জিৎ যে নিজের পোস্টে সেকথাই বলতে চেয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। প্রশ্ন উঠেছে, ২ বছর কেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে ছিলেন অভিনেতা? বাকিদের মতো তিনিও কি ‘ব্যান কালচারে’র শিকার?