ককরোচ জনতা পার্টিকে আটকাতে বিশাল ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ
সুকান্তের কবিতায় আছে 'বিদ্রোহ চারিদিকে, বিপ্লব আজ।' এই মুহূর্তে দিল্লির অবস্থা সেইরকম। একদিকে 'ইন্ডিয়া' জোট ও অন্যদিকে CJP র আন্দোলনে দিশাহারা দিল্লি পুলিশ। দিল্লিতে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চরমে। একদিকে যেমন CJP-র যুবকেরা বিক্ষোভ দেখাতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, এই বিক্ষোভ রুখতে রাজধানীর বুকেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার SIR ইস্যুতে এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছে CJP। ফলে দিল্লির যান চলাচল ব্যবস্থা, রেল ও মেট্রো পরিষেবা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। যদিও দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। এদিকে কেন্দ্রও বেশ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দিল্লির সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের এন্ট্রি ও এক্সিট গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক সিকিউরিটি প্ল্যান তৈরি করেছে। রাজধানীর নয়াদিল্লি ও সেন্ট্রাল দিল্লি জেলাসহ সীমান্ত এলাকাগুলোতে ২০,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশন এবং দিল্লি পুলিশ সদর দফতরের চারপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় ৬,৫০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একাধিক রিপোর্ট বলছে, দিল্লি পুলিশ ১২টি আটক কেন্দ্র তৈরি করেছে। অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা যে কাউকে আটক করে এই কেন্দ্রগুলিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনুমোদনহীন সমাবেশ প্রতিরোধ করা হবে এবং যারা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, নয়াদিল্লির সংবেদনশীল এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ই অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ-কর্তব্যপথ সংযোগস্থলের প্রায় চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করার আদেশ জারি করা হয়েছে।
